শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর হাই স্কুলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়টির ৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে শিক্ষকদের কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন তারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে শিক্ষকরা লিখিত অঙ্গীকার দিলে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে তাদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রামেরচর হাই স্কুল থেকে তিনটি বিভাগে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২১ জন। অর্থাৎ ৫৭ জন শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি। আর বিজ্ঞান বিভাগে ফেল করেছে ৪৩ জন।
ফল প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চান। এ সময় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষকদের কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। অনেক শিক্ষক নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। তাদের দাবি, শিক্ষকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে প্রতিবছর বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারছে না এবং অকৃতকার্য হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারপত্র দেওয়া হয়। এতে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফি নিজেদের অর্থায়নে বহনের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পুনরায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য তাদের ফরম পূরণের খরচও শিক্ষকরা নিজেদের অর্থে বহন করবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
লিখিত অঙ্গীকার পাওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষকদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে দেন। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
শেরপুর সদর থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, রামেরচর হাই স্কুলের শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয়েছে। আলোচনা শেষে উভয়পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।