বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই ২০২৪ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খুলনা
  6. খেলাধুলা
  7. চট্রগ্রাম
  8. জেলার খবর
  9. ঢাকা
  10. তথ্য-প্রযুক্তি
  11. প্রবাসের কথা
  12. বরিশাল
  13. বাংলাদেশ
  14. বিনোদন
  15. ব্যাবসা-বাণিজ্য

বৃহস্পতিবারও অবরোধ কর্মসূচি কোটাবিরোধীদের

প্রতিবেদক
Newsdesk
জুলাই ১১, ২০২৪ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবারও অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।

বুধবার সন্ধ্যায় নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সারাদেশের সড়ক ও রেলপথে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবে তারা।

বুধবার শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে আসিফ বলেন, আগামীকাল বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হবে। সারা দেশে সড়ক ও রেলপথে আমাদের শিক্ষার্থীরা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হবেন এবং সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে শাহবাগ ব্লক করবেন।

আরেক সমন্বয়ক শারজিস আলম বলেন, আদালতের রায় আমাদের বলছে চার সপ্তাহ পরিপত্র বহাল থাকবে। তা এটিও বলছে চার সপ্তাহ পরে আরেকটি শুনানি হতে পারে। সেখানে সরকারের পরিপত্রটি বহাল রাখতে পারে আবার অবৈধও ঘোষণা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন,পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ হয়নি। সেখানে ২০১৮ পরিপত্রটি বহাল রাখতে পারে বা সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। আবার বলা হচ্ছে যদি কোটা প্রথা বাতিল করা হয়, সেখানে আমাদের কথা হচ্ছে আমরা বাতিল নয়, সংস্কার চাই। আমাদের দাবি কিন্তু কোটা বাতিল নয়, সব সরকারি চাকরিতে কোটার সংস্কারের যৌক্তিক সংস্কার। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের করা রিটের কারণে পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। যদি আবারও কারও রিটের পর আবারও সেটি অবৈধ করা হয় তাহলে আমরা যাব কোথায়? জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জারি করা পরিপত্র ছয় বছর পর অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে আমাদের ভরসার জায়গা আসলে কোথায়? আমাদের দাবি নির্বাহী বিভাগের কাছে। তারা যদি আমাদের লিখিত দেয় যে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের করার জন্য কমিটি গঠন করা হবে তাহলে আমাদের কথা দিচ্ছি আপনাদের সঙ্গে রাজপথে আর আমাদের দেখা হবে না।

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের বুধবার স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ওই পরিপত্রে বলা হয়, নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। এখন থেকে মেধারভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কোটা ব্যবস্থা আগের মতই বহাল থাকবে বলে ওই পরিপত্রে বলা হয়।

ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন।

গত ৫ জুন সেই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাই কোর্ট বেঞ্চ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গত ৪ জুলাই এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানির দিন ধার্য ছিলো। তবে রিটকারীর পক্ষে সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্টের রায় আপাতত বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

আন্দোলন ‘চালিয়ে যাবে’ কোটাবিরোধীরাআন্দোলন ‘চালিয়ে যাবে’ কোটাবিরোধীরা
মঙ্গলবার দুই শিক্ষার্থী হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন। চেম্বার জজ বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য বুধবারের কার্যতালিকায় রাখেন।

হাই কোর্টের রায়ের পর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা। ১ জুলাই থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে তারা কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন।

এর অংশ হিসেবে গত রোব ও সোমবার ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে তারা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অবরোধের কারণে শহরজুড়ে তীব্র যানজটে নাকাল হতে হয় ঢাকাবাসীদের।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। তাদের অবরোধের কারণে পুরো ঢাকা জুড়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় রেল চলাচল। আগেরবারের মতো চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

এই আন্দোলনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোটা নিয়ে স্থিতাবস্থা জারির আদেশ আসে।

তবে সর্বোচ্চ আদালতের ওই আদেশ ‘প্রত্যাখান’ করে দুপুরেই আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিলো, তারা কর্মসচি অব্যাহত রাখবে।

তাদের দাবি, সংসদে আইন পাস করে সরকারি চাকরির কোটাব্যবস্থার ‘যৌক্তিক’ সংস্কার করতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা বলছেন, শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ কোটা রেখে সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে সব ধরনের কোটা বাতিল করতে হবে।

সর্বশেষ - খেলাধুলা