আন্তর্জাতিক

পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পদত্যাগপত্রে জন হিলি অভিযোগ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘দেশকে রক্ষার জন্য এই সময়ে যে সম্পদ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে আপনি সক্ষম হননি এবং ট্রেজারি (অর্থ মন্ত্রণালয়) তা দিতে অনিচ্ছুক ছিল।’

এদিকে কয়েক মাস ধরে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে ব্যয় সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে সরকারের বহুল প্রত্যাশিত ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ গত বছর থেকে আটকে আছে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

একদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমে আসছে, অন্যদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত ব্রিটেনের সামরিক প্রস্তুতির ঘাটতিও সামনে নিয়ে এসেছে। চলমান এই সংঘাতে ব্রিটিশ নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে একটি উন্নত যুদ্ধজাহাজ অঞ্চলে মোতায়েন করতে পারেনি।

প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো- সামরিক সরঞ্জাম ও সেবাখাতে অর্থায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা। যাতে সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধ-প্রস্তুত’ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়। এ বিষয়ে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, আগামী ৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগেই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হবে।

তবে পদত্যাগপত্রে হিলি বলেন, ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের জন্য যে আর্থিক বরাদ্দ আমাকে দেওয়া হয়েছে-যার পূর্ণ বিবরণ আমি চলতি সপ্তাহের সোমবার বিকেলে প্রথম পাই। যদিও তা এই বিপজ্জনক সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় অনেক কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আমাদের বাহিনীর প্রস্তুতি কমিয়ে দেবে, অভিযানে নিয়োজিত সদস্যদের ঝুঁকি বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশকে আরও অনিরাপদ করে তুলতে পারে।’

হিলির পদত্যাগ ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশটির প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক ব্যয় নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় পরীক্ষা কেন্দ্র সরিয়ে নিলো ইরান

Babul DRU

ভারতে আবারও করোনা শনাক্ত

Newsdesk

হরমুজে ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনায় ইরানি দূতকে তলব

Babul DRU