ইরানের সঙ্গে কোনো পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদারের মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ওয়াশিংটন ডিসিতে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, তবে আপনারা আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সব জানতে পারবেন।
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যদি তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার ফল ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
গত মঙ্গলবার জেনেভায় হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন দাবির বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা মূলত এই প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এদিকে আলোচনার সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি ব্যাপক হারে বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) স্ট্রাইক গ্রুপ ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে, যেখানে ইতিমধ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ মোতায়েন রয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে, তা দিয়ে ইরানের ওপর বড়ো ধরনের বিমান হামলা চালানো সম্ভব। তবে এ ধরনের অভিযানের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী হতে পারে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সামরিক বিজ্ঞান পরিচালক ম্যাথিউ সেভিল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ একত্রে দৈনিক কয়েকশ বিমান হামলা পরিচালনা করতে সক্ষম। প্রশ্ন হলো, এতো বড়ো সামরিক প্রস্তুতির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছে, যদি ইরান কোনো সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ওই অঞ্চলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও জোরদার করছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, কাতারের আল-উদাইদ বিমান ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। সাইপ্রাসের কাছে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও ইসরায়েল অভিমুখে আসা যেকোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য করতে চাইছে।


















