ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৬ ওভার পর্যন্ত ধুঁকতে থাকা নিউজিল্যান্ড যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালো, তা ছিলো অবিশ্বাস্য। মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককনকির ব্যাটে পাওয়া লড়াকু (১৬৮ রান) পুঁজি নিয়ে পরে বল হাতে শ্রীলঙ্কাকে দাঁড়াতেই দেয়নি কিউইরা। ম্যাট হেনরির তোপ আর রচিন রবীন্দ্রর ঘূর্ণি জাদুতে দিশেহারা হয়ে বড়ো ব্যবধানে হেরেছে লঙ্কানরা।
ম্যাচের একপর্যায়ে কিউইদের রানরেট ও উইকেটের অবস্থা ছিলো বেশ নাজুক। কিন্তু ১৬তম ওভারের পর দৃশ্যপট বদলে দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (৪৭) ও কোল ম্যাককনকি (৩১*)। এই জুটির ঝড়ো ব্যাটিংয়েই মূলত লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। ব্যাটিংয়ের এই নাটকীয় ঘুরে দাঁড়ানোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
রান তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কা ইনিংসের প্রথম বলেই ধাক্কা খায়। ম্যাট হেনরির করা ইনিংসের প্রথম বলে সাজঘরে ফেরেন পাথুম নিসাঙ্কা। শুরুতে দুই উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন হেনরি। এরপর পিচের স্পিন ও বাউন্সকে কাজে লাগাতে স্যান্টনার দ্রুত স্পিনারদের আক্রমণে আনেন। নিউজিল্যান্ড এদিন মোট ১৭ ওভার স্পিন বল করায়।
বল হাতে এদিন ‘আনলাইকলি হিরো’ হিসেবে আবির্ভূত হন রচিন রবীন্দ্র। তার চার উইকেটের (ফোর-ফার) সামনে কুপোকাত হয় লঙ্কান মিডল অর্ডার। নিসাঙ্কা ও আসালাঙ্কার দ্রুত বিদায়ে শ্রীলঙ্কা কখনোই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি।
এক পায়ে চোট নিয়ে কুশল মেন্ডিস লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও পাওয়ার প্লে শেষ হতেই প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়। কামিন্দু মেন্ডিস (৩১) ও দুনিথ ওয়েললাগে (২৯) সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কিউইদের জয় আটকানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি কেউ। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের নিখুঁত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের সামনে আত্মসমর্পণ করতে হয় লঙ্কানদের। কুড়ি ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় আট উইকেটে ১০৭। আর নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচ জেতে ৬১ রানে।


















