পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও একটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রোববার (১৫ মার্চ) সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল স্বাগতিকরা।
এর আগে ২০১৫ সালেও ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা।
বাংলাদেশের দেওয়া ২৯১ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার বোলিং তোপে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৭ রানেই তারা হারিয়ে ফেলে টপ অর্ডারের ৩ উইকেট। তাসকিন নিজের প্রথম দুই ওভারে সাহিবজাদা ফারহান (৬) ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪) সাজঘরে ফেরত পাঠান। মাঝে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)।
এরপর ঘুরি (২৯) ও আব্দুল সামাদ (৩৪) প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করলেও একশর আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান।
বিপদের মুখে একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলী আগা। অভিষেক ম্যাচে দারুণ খেলতে থাকা সাদ মাসুদকে (৩৮) সঙ্গী করে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। সাদকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। এরপর ফাহিম আশরাফকেও (৯) টিকতে দেননি তাসকিন।
তবে শাহীন শাহ আফ্রিদিকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান সালমান আগা। এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলেও ১০৬ রানের মাথায় তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তাসকিন। শেষ ওভারে শাহীন আফ্রিদি (৩৭) দুটি ছক্কা মেরে রোমাঞ্চ ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত ২৭৯ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৪টি ও মুস্তাফিজুর রহমান ৩টি উইকেট নেন। নাহিদ রানা পান ২টি উইকেট।
এর আগে সকালে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতেই ১০৭ বলে ১০৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কার মার।
তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাইফ হাসান (৩৬)। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১০৫ রান। মিডল অর্ডারে লিটন দাসের ৪১ এবং তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ৩টি উইকেট নেন।
ম্যাচ শেষে সিরিজ জয়ের উল্লাসে মাতে মিরপুরের গ্যালারি। অভিষেক সেঞ্চুরিতে ম্যাচের নায়ক হয়ে থাকলেন তরুণ তানজিদ হাসান তামিম।




















