চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শেষ হয়েছে সন্ধ্যায়। ওই আস্তানা থেকে ১২ জনকে আটক করার তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। অভিযান শেষে জনসাধারণেল নিরাপত্তায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান শুরুর আগেই তা ফাঁস হয়ে গেছে। গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে অভিযানের তথ্য আগেই তথ্য জেনে যায় অপরাধীরা। অভিযান শুরুর আগেই তারা ভেঙে ফেলে সড়ক যোগাযোগের কালভার্ট। প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সড়কেও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি যাতে নির্বিঘ্নে দুর্গম এই এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে; সেজন্য এই অপচেষ্টা চালায় অপরাধীরা। তবে বিকল্প উপায় বের করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করেছে এলাকাটিতে। অপরাধীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে ড্রোনের সাহায্য নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে আটক করা হয়েছে ১০ জনকে।
জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুরেরই অংশ। ছিন্নমূলের পরেই আলীনগর। ছিন্নমূল যাওয়ার পর আলীনগর ঢোকার আগে রাস্তায় একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। যত বাহিনী আছে, তারা এটি সরিয়ে সামনে এগোয়। কিছু দূর পরে, সম্ভবত রাতের আঁধারে, একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে কালভার্টের ওই অংশ ইট–বালি দিয়ে ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করেছে।
অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।


















