রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ২৬ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে জেলা প্রশাসন। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য দায়ি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ২৫ মার্চ বিকেলে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রায় সাত ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে ২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই বিআরটিএ বাসটির নিবন্ধন স্থগিত করে এবং জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে সরাসরি কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অবহেলার কথা উঠে এসেছে। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, তদন্তে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, সড়ক বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মেকে আহবায়ক করে গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমরা এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক উছেন মে জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার কারণ ও ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ এই প্রাণহানির পরও দৌলতদিয়া ঘাটের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামত করা হয়নি এবং মান্ধাতা আমলের ঝুঁকিপূর্ণ পন্টুন দিয়েই যানবাহন পারাপার চলছে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা সেক্টরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম দায় চাপিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি ও অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহনের ওপর। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে যেসব ওভারলোডেড যানবাহন যেতে দেওয়া হয় না, সেগুলো এই নৌরুট দিয়ে পার হয়। বিআইডব্লিউটিসির কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এমন বড়ো দুর্ঘটনা ঘটছে।
অপরদিকে, দুর্ঘটনার পর সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা দেখা গেছে। এখন অনেক যাত্রী ঝুঁকি এড়াতে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ফেরিতে উঠছেন। তবে অর্ধেকের বেশি যাত্রী এখনো বাসের ভেতরেই অবস্থান করেন।
দক্ষিণঞ্চালের যাত্রীদের দাবি, তদন্তে দোষী সাব্যস্তদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৌপথের নিরাপত্তা বাড়াতে অবিলম্বে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।


















