বুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই, একদিন আগে নয়-পরেও নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৪:০৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে সৃষ্ট সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দেশে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সূচির কোনো ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক- সাবেক অ্যাক্টিং আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মরস ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে নির্বাচন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং অপপ্রচার মোকাবিলাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পায়।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে- এর এক দিন আগেও নয়, পরেও নয়। তিনি নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর। প্রশাসন সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন থাকবে এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সরকার এই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর মতে, এই সনদ দেশে গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করবে।

নির্বাচন ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা এআই-নির্ভর ভিডিও এবং মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দেশের সচেতন জনগণ এসব মিথ্যা শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গম্বিসও এ সময় একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু।

দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে কোনো পুনর্মিলন কমিশন গঠন করা সম্ভব কি না- কূটনীতিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে এর জন্য এখনো উপযুক্ত সময় আসেনি।

তিনি যুক্তি দেন যে, সত্য ও পুনর্মিলন তখনই সম্ভব, যখন কেউ নিজের ভুল স্বীকার করবে এবং অনুশোচনা প্রকাশ করবে। কিন্তু সাবেক শাসকগোষ্ঠী জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের হত্যার বিষয়টি এখনো অস্বীকার করছে এবং একে সন্ত্রাসীদের কাজ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের সহায়তা কামনা

নির্বাচনকালীন অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্যের ‘বন্যা’ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন অধ্যাপক ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা চেয়েছেন।

জবাবে ভলকার তুর্ক আশ্বাস দিয়েছেন, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং অপতথ্য রোধে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টার এই অনড় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এটিই নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকার যেমন দৃঢ়, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এর সফল সমাপ্তি দেখতে চায়।

সর্বশেষ - আইন-আদালত