ভারতে আয়োজিত একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭০টি দেশের নৌবাহিনী। বহুজাতিক এই সামুদ্রিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় শহর বিশাখাপত্তম-এ। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের এক বা একাধিক যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে মহড়ায় যোগ দেয়, যা সামুদ্রিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পতাকার জাহাজ ও ভিন্ন দেশের নৌসদস্যদের সম্মিলিত উপস্থিতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার বার্তা বহন করে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী এই মহড়ায় অংশ নিতে তাদের ফ্রিগেট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’ পাঠায়। জাহাজটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের বন্দরে পৌঁছায় এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। বহুজাতিক এই মহড়ার মাধ্যমে সমুদ্র নিরাপত্তা, সমন্বিত টহল, দুর্যোগ মোকাবিলা ও যৌথ অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডসহ বহু দেশ এতে যোগ দেয়। ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর ফ্রিগেট কেআরআই বুং তোমো-৩৫৭ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুদ্ধজাহাজ আল ইমারাত মহড়ার উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারী হিসেবে নজর কাড়ে। স্বাগতিক দেশের পক্ষ থেকে অংশ নেয় ভারতীয় নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, এই আয়োজন সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আস্থা ও ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, মহড়ার মূল প্রতিপাদ্যই হচ্ছে সামুদ্রিক ঐক্য, যা বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত নৌ শক্তির এই উদ্যোগ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, সমুদ্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘বিশ্ব পরিবার’ নীতিকে সামনে রেখে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও টেকসই স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
সূত্র: পিটিআই


















