আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘ এক দশক পর আবারও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের ভাষণ প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ আরও অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের বিটিভিতে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এক চিঠিতে বিটিভি মহাপরিচালককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিএনপি প্রধানের ভাষণ ৯ ফেব্রুয়ারি: এখন পর্যন্ত একমাত্র বিএনপি তাদের দলীয় প্রধানের ভাষণের জন্য আবেদন করেছে। আবেদনের ক্রমানুসারে এবং দলের পক্ষ থেকে চাওয়া সময় অনুযায়ী আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি প্রচারণার শেষ স্লটে বিএনপি প্রধানের ভাষণ প্রচারের ব্যবস্থা নিতে বিটিভিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে।
সবার জন্য সমান সুযোগ ও ইসি’র নির্দেশনা: বিটিভিকে দেওয়া চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব দল সুযোগ চাইবে, তাদের আবেদনের সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে স্লট বরাদ্দ দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশন আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ভাষণ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। রেকর্ডিংয়ের তারিখ ও সময় বিটিভি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করবে।
বিটিভিতে দলীয় প্রধানদের ভাষণের এই রীতি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন এবং ২০১৩ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগে কার্যকর ছিল। তবে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ধারাবাহিকতা আর বজায় রাখা হয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই গণতান্ত্রিক রীতি ফিরিয়ে আনল বর্তমান কমিশন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে তৎকালীন প্রধান দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার আধা ঘণ্টার বেশি দীর্ঘ ভাষণ ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি করেছিল।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি নিবন্ধিত দল অংশ নিচ্ছে। বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম জানান, এত বিপুল সংখ্যক দলের ভাষণ প্রচার করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। সেক্ষেত্রে যেসব দলের প্রার্থী সংখ্যা বেশি, তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে।
ইসি’র তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি (২৯২ জন)। এরপর ক্রমানুসারে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৫৩ জন), জামায়াতে ইসলামী (২২৪ জন) এবং জাতীয় পার্টি (১৯২ জন)। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিসহ আরও অনেক দল ভোটের মাঠে রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে প্রচারের শেষ সময়ে এই ভাষণগুলো ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















