বিশেষ বৃত্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০তম ব্যাচের (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় উপাচার্যসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাতভর অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।
জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টা থেকে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিনসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাতে খাবার ও বিশ্রামের ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়েন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও আবাসন ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে ক্যাম্পাস হওয়ায় প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের আর্থিক ও আবাসন সংকটে পড়ছেন। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য আলাদা বৃত্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “২০তম ব্যাচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গৌরবান্বিত ব্যাচ। তবে নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির প্রথম কিস্তি যুক্ত করলে ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যমুনা আন্দোলনে আগের ব্যাচগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে।”
তিনি জানান, এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা প্রায় ২৫-৩০ জন কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। সব কিছুরই একটা সীমা আছে।” তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে রোববার সকালে আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল- “২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত মানি না”, “বৈষম্যের সিদ্ধান্ত মানি না”, “বৃত্তি মোদের অধিকার”, “বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?” ইত্যাদি।
সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


















