All Postবাংলাদেশ

ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষ, বিধ্বস্ত দেড় লাখ বাড়ি

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে দেড় লাখের বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় আট লাখ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে, সেখানে আশ্রিত গৃহপালিত পশুর সংখ্যাও অর্ধলাখের বেশি।

ঘূর্ণিঝড় রিমাল পরবর্তী পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর জানাতে সোমবার বিকেলে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান শামীম হাসান ভুঁইয়া বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় আঘাত আনা ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে মঙ্গলবারও সারা দেশে বৃষ্টি হবে। স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়া রিমান অস্তিত্বহীন হবে সিলেট গিয়ে।

প্রতিমন্ত্রী মহিববুর জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১৯টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলাগুলো হলো-খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও যশোর।

আর এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা ১০৭ এবং ইউনিয়নের ও পৌরসভার সংখ্যা ৯১৪ বলেও জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড়ে ১০ জনের মৃতু্যুর খবর পাওয়ার কথা জানিয়ে মহিববুর বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে কথাবার্তা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৭ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯৬ জন। সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে ৩৫ হাজার ৪৮৩টি ঘরবাড়ি। আর আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ১৯২টি ঘরবাড়ি।

ঘুর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা পেয়েই উপকূলীয় জেলাগুলোতে ৯ হাজার ৪২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আট লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়াসহ আশ্রিত পশুর সংখ্যা ৫২ হাজার ১৪৬।

আর দুর্গত মানুষদের চিকিৎসা দিতে এক হাজার ৪৭১টি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামানো হয়েছে জানান মহিববুর।

তিনি বলেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের সাহায্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি আমরা। ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ছয় কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ১৫ জেলায় তিন কোটি ৮৫ লাখ নগদ টাকা এবং পাঁচ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল, পাঁচ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্য কেনার জন্য দেড় কোটি করে টাকা হয়েছে হয়েছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

এ সর্ম্পকিত সংবাদ

Back to top button