All Postবাংলাদেশ

প্রচুর বৃষ্টি ঝরাচ্ছে দুর্বল রিমাল, বিলীন হবে আসামে

উপকূলে আঘাত হেনে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করার পর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। তবে ঝড়ের প্রভাবে প্রভাবে ঢাকাসহ সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে ধীরে ধীরে তা সিলেট হয়ে ভারতের আসামের দিকে চলে যাচ্ছে।

আর এর প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়বিদরা।

প্রবল ঘুর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার পর সোমবার সকাল সাতটার মধ্যে সাগর থেকে পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসে রিমাল। উপকূল আঘাত করেই কিছুটা দুর্বল হয়ে এটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে খুলনা অঞ্চলে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে।

vanga_ghor_5

উপকূল অতিক্রমের সময় রোববার সন্ধ্যায় খেপুপাড়ায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১১ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়। কিন্তু এদিন সকাল নটার পর ঘূর্ণিঝড়টি আরও দুর্বল হয়ে শক্তি হারিয়ে স্থল নিম্নচাপে রূপ নেয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক  আজিজুর রহমান।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া উইন্ডি ডটকম দেখাচ্ছে, রিমালের কেন্দ্র ভারতের সুন্দরবন অংশের উপর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইল ঢাকা, ময়মনসিংহ হয়ে সিলেট দিয়ে ভারতে আসামে চলে যাবে।

রিমাল পুরোপুরি বিলীন হবে আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে আরো ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের চা নগরী ডিব্রুগড়ে গিয়ে।

বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার পর নিম্নচাপে রূপ নিয়ে যশোর হয়ে ঢাকার দিকে এগোতে থাকে রিমাল। যার প্রভাবে সকাল থেকে ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে বয়ে যাচ্ছে ঝড়ো বাতাস।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঢাকায় সোমবার সকাল ছয়টা ২০ মিনিটে সর্বোচ্চ ৫৯ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বয়ে যায়। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ মিলিমিটার।

waterlog-3

শুধু ঢাকায় নয়, বিস্তীর্ণ উপকূলের পাশাপাশি পুরো দেশেই রিমালের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী রিমালের সক্রিয় প্রভাব সোমবার রাত পর্যন্ত থাকবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদ আজিজুর রহমান।

মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দেশের কিছু কিছু এলাকার আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে, ঘূর্ণিঝড়ের রেশ পুরোপুরি কাটতে বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে সাধারণ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানলেও বাংলাদেশে উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে রিমাল। দেড় লাখের বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

ctg

ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় আট লাখ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে, সেখানে আশ্রিত গৃহপালিত পশুর সংখ্যাও অর্ধলাখের বেশি।

ঘূর্ণিঝড় রিমাল পরবর্তী পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর জানাতে সোমবার বিকেলে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

আর রিমালের প্রভাবে দেশে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় এক কোটি ৩১ লাখ গ্রাহক। উপকূলীয় কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন এলাকা জলোচ্ছ্বাসের পানির তোড়ে ডুবে গেছে।

এ সর্ম্পকিত সংবাদ

Back to top button