শনিবার , ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

দাবানল হয়ে ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ, ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ১০, ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

ইরানের প্রধান শহরগুলো শুক্রবার রাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন করে গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। শনিবার অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। বর্তমানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা।

দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছেন।

iran 002

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের সবচাইতে বড় বিক্ষোভের পর শুক্রবার রাতেও নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ইন্টারনেট মনিটর নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট অব্যাহত রয়েছে, যা বিক্ষোভের ছবি বহির্বিশ্বে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।

ইরানের হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহরের ৫১২টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে ৫০ জন বিক্ষোভকারী, ১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন সরকার সমর্থিত বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২,৩১১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটে আহত হয়েছেন।

iran 003

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে প্রাণঘাতী শক্তির বেআইনি ব্যবহারের উদ্বেগজনক রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করছে। নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি সতর্ক করেছেন, যোগাযোগের এই বিচ্ছিন্নতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের কোনো ‘গণহত্যা’র প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না। তিনি তেহরানের একটি হাসপাতালেই কয়েকশ মানুষের চোখে আঘাত পাওয়ার খবর পেয়েছেন।

তেহরানের সাদাতাবাদে মানুষকে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য ভিডিওতে রাজধানী ছাড়াও মাশহাদ, তাবরিজ এবং পবিত্র শহর কোমেও বিশাল বিক্ষোভের চিত্র উঠে এসেছে। পশ্চিমের শহর হামাদানে এক ব্যক্তিকে শাহ আমলের পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে। উত্তরের একটি জেলায় মানুষকে মহাসড়কের মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে নাচতে দেখা গেছে।

iran 004

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি শুক্রবারের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব বলে অভিহিত করেছেন এবং শনি ও রবিবার আরও সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন শুধু রাস্তায় নামা নয়, বরং শহরের কেন্দ্রগুলো দখল ও নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে বেশ কজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। খামেনি বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাকারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় শত্রুর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা দেবে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, আমরা একটি যুদ্ধের মাঝখানে রয়েছি এবং এই ঘটনাগুলো বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

সর্বশেষ - আইন-আদালত