আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন দেশি-বিদেশি নানা সমীকরণ চলছে, ঠিক তখনই নিজের ও নিজ দেশের অবস্থান স্পষ্ট করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি সোজা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করবে না; বরং ভোটের ফলাফল কী হবে তা সম্পূর্ণ এ দেশের জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।
বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নেয় না। তিনি স্পষ্ট করেন, এই নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নির্ধারণ করবেন শুধু বাংলাদেশের জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে সরকারকেই ক্ষমতায় বসাবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচনের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। ব্রিফিং শেষে ক্রিস্টেনসেন জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্যগুলো জেনে তিনি সন্তুষ্ট।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি বাংলাদেশে আসার আগে মার্কিন সিনেটে তার নিশ্চিতকরণ শুনানির সময় থেকেই এ দেশের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচনের দিনটির দিকে তাকিয়ে আছি। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে জানতে পেরেছি, নির্বাচনকে একটি উৎসবমুখর দিনে পরিণত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আমিও আশা করি, এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে।
বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মার্কিন দূতের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সিইসির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রতিনিধিদলে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও ফিরোজ আহমেদ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সিইসির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
উপস্থিত সাংবাদিকরা জাতীয় নির্বাচনের তারিখ বা সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক প্রশ্ন করতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বিনয়ের সঙ্গে তা এড়িয়ে যান। তিনি কোনো প্রশ্ন নেবেন না জানিয়ে ‘সরি’ বলে নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তার এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


















