অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞায়ন নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কি নতুন সংজ্ঞায় সাম্প্রদায়িকতাকে সংজ্ঞায়িত করে বলতে চান যে, কেবলমাত্র মন্দির বা উপাসনালয়ের আঙিনায় সংঘটিত সহিংসতা ছাড়া সমাজে ও রাষ্ট্রে সংঘটিত অন্য কোনো ঘটনা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়? আমরা সাম্প্রদায়িকতার এই ধরনের ‘উদ্ভট’ সংজ্ঞার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক বছরে দেশে ৫২২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কেবল জানুয়ারি মাসেই ঘটেছে ৪২টি ঘটনা। এসব অব্যাহত ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী কেবল ক্ষুব্ধ নয়, স্বদেশে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিতান্তই শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন।
পরিষদ অভিযোগ করে, এমন পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কিংবা রাজনৈতিক দল—কেউই তাদের মনে কোনো রূপ আশা ও আস্থা জাগাতে পারছে না।
আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সংবাদ সম্মেলন থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং একটি মনিটরিং সেল গঠন করা।
এছাড়া সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা গুজবের বিষয়ে কঠোর শাস্তি ও দায়ীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে পরিষদ বলে, নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যুক্ত করতে হবে।


















