যুক্তরাজ্য সরকার কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় নতুন একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়েছে, যেখানে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া সম্ভব।
সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এটি ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর থেকে দেশের সর্ববৃহৎ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা শিখবেন এআই টুল কার্যকরভাবে ব্যবহার করার কৌশল। উদাহরণস্বরূপ, চ্যাটবটের মাধ্যমে প্রশ্ন করা, প্রশাসনিক কাজে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি এবং তথ্য সংগঠিত করা।
প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে অ্যামাজন, গুগল এবং মাইক্রোসফট। মোট ১৪টি কোর্স সম্পন্ন করলে ভার্চুয়াল ব্যাজ দেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, “মানুষ যাতে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। পরিবর্তন থামানো যাবে না, তবে নীতিনির্ধারণে নির্ধারিত হবে এর সুফল। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআই সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”
তবে সমালোচকরা মনে করছেন, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখানো যথেষ্ট নয়। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, “এআই যুগের দক্ষতা শুধু ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্লেষণী চিন্তা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নেতৃত্বগুণও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের অবশ্যই এআই নিরাপদে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।”
ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)ও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেন, “দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়কেও প্রযুক্তি বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই জ্ঞান থাকা জরুরি।”
কোর্সগুলোর সময়সীমা বিভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের, আবার কিছু কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এতে অংশ নিতে পারবেন।
এই উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আরও কয়েকটি বড় সংস্থা, যেমন এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেবে।
এআই দক্ষতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ক্ষমতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের কাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।


















