যারা বছরের পর বছর জনগণের চোখের আড়ালে গুপ্ত জীবন যাপন করেছে, তারাই আজ জামায়াতে ইসলামিকে গুপ্ত বলে আখ্যা দিচ্ছে-এমন মন্তব্য করে বিষয়টিকে চরম লজ্জাজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর কলাবাগান সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, সম্প্রতি একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জামায়াতকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যারা নিজেরাই বছরের পর বছর জনগণের সামনে আসতে পারেনি, তারাই আজ আমাদের গুপ্ত বলছে। এটি শুধু রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব নয়, বরং জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল।
তিনি বলেন, দেশের আকাশে এখন কিছু কালো চিল ঘোরাফেরা করছে। তারা জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার এই নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়। দেশবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী দিনে যে সরকার গঠিত হবে, তা কোনো নির্দিষ্ট দল, পরিবার কিংবা জোটের সরকার হবে না। সেই সরকার হবে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সরকার। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশবাসীকে একটি মানবিক বাংলাদেশ উপহার দেওয়া হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। কোনো অপরাধীই বিচার এড়িয়ে যেতে পারবে না। জাতির সামনে আমরা এই অঙ্গীকার করছি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, বিপদের দিনে আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। চাইলে অনেকেই বিদেশে আশ্রয় নিতে পারতাম, কিন্তু আমরা এই মাটি ও মানুষের সঙ্গেই থেকেছি। আগামীতেও থাকব। যারা বিদেশে বসে দেশ পরিচালনার স্বপ্ন দেখে, তারা আমাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে-এটা হাস্যকর।
ঢাকার হাজারীবাগ ও ট্যানারি শিল্প প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ট্যানারি শিল্পকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রূপ দেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে চামড়া শিল্পের উন্নয়ন ঘটানো গেলে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে একটি অনন্য অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এ খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু শক্তি আগামী ১০০ বছর দেশের কী প্রয়োজন, তা এখনই বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করতে চায়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে সিদ্ধান্ত আসবে বিদেশ থেকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, দেশের ভেতর থেকেই।
জনসভায় ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীসহ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। তারা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।


















