আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণ কে করাবেন, তা নিয়ে একটি আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। সচরাচর বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করালেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এই সংকটের সমাধান ও সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণত বিদায়ী স্পিকার নতুন নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়িয়ে থাকেন। যদিও সংবিধানের ৭৬ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত আগের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদে বহাল থাকার কথা, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। আর সাবেক ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাদের দিয়ে শপথ পড়ানোর কোনো সুযোগ বর্তমানে নেই।
ড. আসিফ নজরুল জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে দুটি প্রধান বিকল্প বা ‘অপশন’ খোলা আছে। এক. সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে পারেন। এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর কথা ভাবছে। দুই. প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের ১৪৮ (২-ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না। নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ পড়াতে গেলে অন্তত তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা সরকার এড়াতে চায়। তাই রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তির (যেমন প্রধান বিচারপতি) মাধ্যমে শপথ পাঠ করানোর সম্ভাবনাই বেশি।
সংবিধান অনুযায়ী একটি বিষয় অপরিবর্তিত থাকছে- প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ সরাসরি রাষ্ট্রপতি পরিচালনা করবেন। আইন উপদেষ্টা আরও জানান, এটি সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে খুব দ্রুতই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।


















