ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি দেশবাসীকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানান। ড. ইউনূস বলেন, আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণের শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, আগামী পরশু এমন একটি দিন, যেদিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করবো এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করবো। এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে তিনি জানান।
তরুণ ও নারী ভোটারদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, গত ১৭ বছর যারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এই ভোট তাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ। এটি বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেওয়ার দিন।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকারের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবার রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো সারাদেশে সিসি ক্যামেরা, বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এবারই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।
ড. ইউনূস তার ভাষণে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের দলিল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সনদ কোনো দলের একক ইশতেহার নয়। সংস্কার কাঠামোর বিষয়ে জনগণের সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। আপনাদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র কোন পথে অগ্রসর হবে।
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলের অপপ্রচারের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। বর্তমান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না—এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
ভাষণের শেষে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে কোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর নির্দেশ দেন এবং দেশবাসীকে ‘নির্বাচন বন্ধু’ হটলাইন (৩৩৩) ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ দেন। ড. ইউনূস প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।


















