কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজও সেটার ব্যতিক্রম হলো না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপের মহা মর্যাদার ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়েছে ভারত।

টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করেছিল ভারত। ৪০ বলে ৭৭ রান করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ঈশান কিষান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় বড় পরাজয়। সবচেয়ে বড় পরাজয় ৮৪ রানের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৪ আসরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।
পাকিস্তান আজ কতটা বাজে ব্যাটিং করেছে, সেটি বোঝার জন্য একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট।

সালমান আলী আগার দলের ব্যাটিং দেখে থাকলে যে কেউ বলবেন, রান তাড়ার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র পরিকল্পনা ছিল না তাদের। বেশিরভাগ ব্যাটার অযথা বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন।
তিলক তবু টুকটাক বোলিং করেন, রিংকু সিং সেটাও করেন না। ৯৭ রানে ৯ উইকেটে হারানো পাকিস্তানকে ১০০ ছুঁতে দিতেই হয়তো সেই রিংকুর হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার। ওই ওভারে পাকিস্তান ৯ রান নিয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে ঠিকই। পরের ওভারে পান্ডিয়া উসমান তারিককে বোল্ড করে ম্যাচের ইতি টেনেছেন।
এর আগে পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মাকে প্রথম ওভারেই ফেরান আগা সালামান। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত রানের খাতা খুলতে পারেননি অভিষেক। যুক্তরাষ্ট্রের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও ফিরেছেন শূন্য রানে।
তবে দ্বিতীয় উইকেটে তিলক বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে ৪৬ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ ভারতের নিয়ন্ত্রণে এনে দেন কিষান। তার বিদায়ের পর আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও ম্যাচ জেতার মতো রসদ পেয়ে যায় ভারত।
গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচ আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আহমেদাবাদে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। একই দিন কলম্বোয় বাঁচা-মরার ম্যাচে নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (কিষান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; আইয়ুব ৩/২৫, সালমান ১/১০, তারিক ১/২৪, আফ্রিদি ১/৩১)।
পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ অলআউট (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*, শাদাব ১৪; পান্ডিয়া ২/১৬, বরুণ ২/১৭, বুমরা ২/১৭, অক্ষর ২/২৯)।
ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ঈশান কিষান (ভারত)।


















