বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা তারেক রহমান। সংসদ নির্বাচনে তাঁর দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পর এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির রাজনীতিতে এক চূড়ান্ত পটপরিবর্তন ঘটল। মঙ্গলবার রবিকোজ্জ্বল বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে তারেক রহমানকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান। ২০২৪ সালে জেন-জি প্রজন্মেরনেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘ অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং তৈরি পোশাক শিল্পের মতো প্রধান খাতগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো জরুরি চ্যালেঞ্জ এখন তাঁর সামনে।
নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন রূপান্তরকালীন সময়ে দেশ পরিচালনা করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, কূটনীতিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ আমন্ত্রিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারও ক্ষমতায় ফিরল। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পতনের পর ২০১৩ সালের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেয়া জামায়াতে ইসলামী রেকর্ডসংখ্যক ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইসি নিবন্ধন বাতিল করায় শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পায়নি। জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্ররা, যাদের মধ্যে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী তরুণ অ্যাক্টিভিস্টদের দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ও রয়েছে, সংসদে বিরোধী দল গঠন করবে।
তারেক রহমানের এই ক্ষমতায় আরোহণ এক দীর্ঘ ও ঝঞ্ঝাবিক্ষত রাজনৈতিক যাত্রার চূড়ান্ত পরিণতি। লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত বছর তাঁর মায়ের মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দীর্ঘকাল ধরে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সমালোচনা করলেও তারেক রহমান বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছেন। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দলীয় সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে এবং বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণাকে নতুন রূপ দিয়েছে।
ছবি: রয়টার্স
নির্বাচন পরবর্তী প্রথম বক্তব্যে তারেক রহমান শান্তি ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। সমর্থকদের প্রতিহিংসা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করব না।


















