মঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

৩ সরকারের শপথ পড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

প্রতিবেদক
Newsdesk
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৮:০৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। মাত্র তিন বছরের মধ্যে তিনটি ভিন্ন সরকারকে শপথ পড়ানোর মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-তে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ গ্রহণ করেন।

এর আগে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার শপথ নিয়েছিল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থানের পর ওই সরকার পতিত হয়। এর পরবর্তী দিনে, ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়, যাদেরও শপথ গ্রহণ করান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।

সাধারণত একজন রাষ্ট্রপতি তার মেয়াদে এক বা দুইবার মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ করান, কিন্তু তিন বছরের মধ্যে তিনটি স্বতন্ত্র সরকারের শপথ গ্রহণ করানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

এবারের সরকার গঠনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে। নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী (যাদের তিনজন টেকনোক্র্যাট) এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রিসভা ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে অনেকেই নতুন মুখ। অনেকেই প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভার ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৭ জন এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সবই নতুন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার প্রথমবার মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।

নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা হলেন: তারেক রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আব্দুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।

প্রতিমন্ত্রীরা হলেন: এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরী, ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ গ্রহণ করানোর এই ঘটনা রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্ব ও সংবিধানপ্রধানতার উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হবে।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নতুন দিকনির্দেশনা পেতে চলেছে। তরুণ ও নতুন নেতাদের অন্তর্ভুক্তি সরকারের কার্যকরী ও নতুন ধারার নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - আইন-আদালত