বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

ইরানে মার্কিন হুমকি প্রতিহতে ধেয়ে আসছে রুশ রণতরি

প্রতিবেদক
Newsdesk
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ণ

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, ইরানকে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, এই অঞ্চলে যে কোনো একতরফা পদক্ষেপ প্রতিহত করতে ওমান সাগরে যৌথ নৌ-মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও রাশিয়া। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করছে টানটান স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা।

বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে চুক্তিতে পৌঁছানোটাই ইরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার কিছু অগ্রগতি হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষ এখনো একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।

ইতোমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছেন ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি লিখেছেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে একটি অত্যন্ত অস্থির ও বিপজ্জনক শাসনের সম্ভাব্য হামলা নসাৎ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দিয়েছিল এবং ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা বর্ষণ করেছিল।

ইরান-আমেরিকাছবি; সংগৃহীত
আলোচনার মূল ভিত্তি ও মতপার্থক্য

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ওমানে এবং গত মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তারা একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথপ্রদর্শক নীতি বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতে, ওয়াশিংটনের বেঁধে দেওয়া ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমাগুলো তেহরান এখনো মেনে নেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তাদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে তাতে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিপরীতে ইরান জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এবং তারা শুধু নিষেধাজ্ঞার বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনার প্রস্তাব তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সামরিক মহড়া ও ইরান-রাশিয়া জোট

কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে উভয় পক্ষ। মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বর্তমানে ইরানি উপকূল থেকে মাত্র ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গত সোমবার ও মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে।

ইরান-আমেরিকাছবি: সংগৃহীত
বুধবার ইরান ও রাশিয়া ওমান সাগরে যৌথ নৌ-মহড়ার ঘোষণা দেয়। রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসুদলো জানান, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক দেশগুলোকে শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া এবং যে কোনো একতরফা পদক্ষেপ” প্রতিহত করা। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে নতুন কোনো মার্কিন হামলা ভয়াবহ পরিণাম বয়ে আনবে এবং এটি হবে আগুন নিয়ে খেলা।

আগামী দিনগুলোর অনিশ্চয়তা

রয়টার্সের তথ্যমতে, জেনেভা আলোচনায় ইরান ওয়াশিংটনের উদ্বেগগুলো লিখিতভাবে জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, আগামী মার্চের মাঝামাঝির মধ্যে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর পূর্ণ সমাবেশ সম্পন্ন হবে।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে দেখা করবেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান- এর মতে, ইসরাইল প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে ওয়াশিংটন ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের ওপর হামলার সবুজ সংকেত দেয়।

উদ্ভিগ্ন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনার পরিধি ও সময় ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত, অথচ সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে ব্যাপক হারে। ফলে আগামী কয়েক দিন সারা বিশ্ব অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের খবরের দিকে নজর রাখবে।

এআরএস

সর্বশেষ - আইন-আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত