ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের গতিপ্রকৃতি ও লক্ষ্য নিয়ে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সোমবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ‘শাসন পরিবর্তন’ নয়, বরং ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেন যে, বর্ত
মান সংঘাতের সাথে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের কোনো তুলনা চলে না। তিনি বলেন, এটি ইরাক নয় এবং এটি অনন্তকাল ধরেও চলবে না। তিনি আরও যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২০ বছরের ‘নেশন বিল্ডিং’ বা রাষ্ট্র গঠনের যুদ্ধগুলোকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বর্তমান প্রশাসন সেই একই ভুল করবে না।
ছবি: সংগৃহীত
হেগসেথের মতে, এই অভিযানের লক্ষ্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও বিধ্বংসী- এক. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূল করা, দুই. দেশটির নৌবাহিনী ধ্বংস করা, তিন. ইরান যাতে পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এই তিন লক্ষ্য অর্জন করাই বর্তমান যুদ্ধে, যা দ্রুতই শেষ করা হবে।
হেগসেথ দাবি করেন, ইরান গত কয়েক দশক ধরে আমেরিকার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে আক্রমণ চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা এটি শেষ করছি। যদিও তিনি একে ‘শাসন পরিবর্তনের যুদ্ধ’ বলতে নারাজ, তবে পরিস্থিতির বিবর্তনে ইরানের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, তার ফলে বিশ্ব এখন নিরাপদ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার আত্মার শান্তি কামনা করে ব্রিফিং শুরু করেন জেনারেল ড্যান কেইন এবং পিট হেগসেথ। নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে অভিহিত করে হেগসেথ বলেন, কোনো ক্ষমা বা দ্বিধা নয়, বরং তাদের সম্মান রক্ষার্থেই আমরা অভিযানের বাকি অংশ সফল করব।
ছবি: সংগৃহীত
জেনারেল কেইন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ এক রাতে শেষ হওয়ার মতো কোনো অপারেশন নয়। সেন্ট্রাল কমান্ডকে দেয়া সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে সময় লাগবে এবং সামনে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, কাজটি অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ হবে, তবে আমরা মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখার চেষ্টা করব।
গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। পেন্টাগনের এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, আমেরিকা একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থলযুদ্ধের বদলে ইরানের কৌশলগত ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।


















