মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার জেরে কাতারের প্রধান গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলার পর সাময়িকভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতার। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি এবং দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস কমপ্লেক্স রাস লাফানে মোট ১৪টি এলএনজি ‘ট্রেন’ পরিচালিত হয়, যার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ টন। এই বিপুল সক্ষমতার কারণেই কাতার বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ফলে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপে গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
আমদানি নির্ভরতায় বাড়ছে উদ্বেগ
কাতারের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছে আমদানিনির্ভর দেশগুলো। তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে ঝুঁকির তালিকায়। দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মধ্যে ওঠানামা করে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুটই আসে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। অর্থাৎ মোট সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নির্ভর করছে বিদেশি উৎসের ওপর।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে ১১৫টি কার্গোর মাধ্যমে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রায় ৪০ লাখ টন সরবরাহ করে কাতার। বাকি বড় অংশ আসে ওমান থেকে, সেটিও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। পাশাপাশি চাহিদা মেটাতে স্পট বাজার থেকেও এলএনজি কেনা হয়, যেখানে দাম তুলনামূলক বেশি এবং অস্থির।
বর্তমানে মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে সমুদ্রপথে আসা কার্গো থেকে এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। মার্চ মাসে মোট ১১টি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এলাকা এড়িয়ে নিরাপদে গন্তব্য অতিক্রম করেছে।
মঙ্গলবার কার্গো এবং তার দুদিন পর কাতার থেকে আরও একটি কার্গো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সমুদ্রে এখনো ২ থেকে ৩টি কার্গো অবস্থান করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। পেট্রােবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক সোমবার রাতে বলেন, কাতার এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে কি না সে বিষয়ে কাতার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জবাব পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিকল্প উৎস খোঁজা শুরু হয়েছে।


















