দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড-ক্রিকেট বিশ্বের এমন দুটি দল যাদের প্রতি নিরপেক্ষ দর্শকদের সব সময়ই এক ধরনের সহানুভূতি ও ভালোবাসা কাজ করে। ২০০০ সালের পর থেকে বড় কোনো আইসিসি ট্রফি জিততে না পারা এই দুই নান্দনিক দল যখন আবারও সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হয়, তখন ক্রিকেট বিশ্ব এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির সাক্ষী হয়।
একদিকে প্রোটিয়াদের বুক ফাটানো হাহাকারের ইতিহাস, আর অন্যদিকে ব্ল্যাকক্যাপসদের ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনালে ওঠার অবিশ্বাস্য রেকর্ড। কিন্তু ট্রফি জয়ের সেই শেষ ধাপটি পার হতে পারেনি কেউই।
ছবি; সংগৃহীত
আগামীকাল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকেই পরিষ্কার ‘ফেভারিট’ বলে মনে করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তারা অপরাজিত, যার মধ্যে গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতিও রয়েছে। অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ১৭৫ স্ট্রাইক রেট নিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
মিডল অর্ডারে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার এবং ট্রিস্টান স্টাবসদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপ যেকোনো দলের জন্য ঈর্ষণীয়। বল হাতে লুঙ্গি এনগিডি এবং কাগিসো রাবাদাদের গতি আর কেশব মহারাজের স্পিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে এক স্বয়ংসম্পূর্ণ দলে পরিণত করেছে।
বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের যাত্রাপথ ছিল কিছুটা বন্ধুর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দাপুটে জয়ে তারা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেও গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোঁচট খেতে হয়েছে। তবে কিউইদের শক্তির জায়গা তাদের বিধ্বংসী টপ-অর্ডার এবং অলরাউন্ডারদের আধিক্য।
ফিন অ্যালেন এবং টিম সাইফার্টের মতো ব্যাটাররা শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। ভারতের কন্ডিশনে তারা আবারও তাদের পেস আক্রমণকে শাণিত করার সুযোগ পাচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড কখনোই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারেনি। তবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবার কিউইদের পাল্লাই ভারী। ইডেনের পিচটি কিছুটা কালচে রঙের, যা স্পিনারদের সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্ধ্যার শিশির টস জয়ী অধিনায়কের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই একটি রোমাঞ্চকর পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। দুই দলই দীর্ঘ সময় ধরে ট্রফির দরজায় কড়া নাড়ছে, এখন দেখার বিষয় এবার কে সেই দরজা ভেঙে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারে।


















