Thursday , 5 March 2026 | [bangla_date]
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

মর্যাদার শিখরে ‘দেশনেত্রী’: মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত খালেদা জিয়া

প্রতিবেদক
Newsdesk
March 5, 2026 11:44 pm

বসন্তের এই রোদেলা দুপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মুকুটে যুক্ত হলো এক উজ্জ্বল পালক। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জননন্দিত নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর নামসহ মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের তিনটি প্রধান স্তম্ভ- স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সামগ্রিক অবদানের জন্য এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসানে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন ঘটেছিল, যা তাঁকে জনগণের কাছে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

আজকের বাংলাদেশে ঘরে ঘরে যে শিক্ষিত নারী সমাজ আমরা দেখি, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল বেগম জিয়ার হাত ধরেই। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি চালু করে তিনি গ্রামবাংলার সাধারণ পরিবারের মেয়েদের স্কুলমুখী করেছিলেন। এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি পথপ্রদর্শক পদক্ষেপ।

‘খাল খনন’ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব, যমুনা বহুমুখী সেতুর কাজ শুরু ও দ্রুত বাস্তবায়ন, এবং তথ্যপ্রযুক্তির প্রাথমিক প্রসারে তাঁর সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি এবারের তালিকায় রয়েছেন আরও অনেক নক্ষত্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল (মরণোত্তর) এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের কিংবদন্তি ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর) এই তালিকায় স্থান পেয়ে সম্মাননার মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এক নজরে অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত এবং কালজয়ী গায়ক বশির আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় টেবিল টেনিসের রানি জোবেরা রহমান লীনু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহরুল করিম, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর) এবং পরিবেশে মুকিত মজুমদার বাবু। এছাড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পিকেএসএফ, এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।


১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াকে এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করায় রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের স্বস্তি ও আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। আগামী ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক তুলে দেওয়া হবে।

এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতেই, এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর আজীবনের সংগ্রামের এক রাষ্ট্রীয় দলিল।

সর্বশেষ - আইন-আদালত