পারস্য উপসাগরে অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী নৌযানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এরই অংশ হিসেবে বুধবার রাতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আক্রমণ করে দেশটির বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর মধ্যে একটি ছিল মার্কিন জাহাজ। এতে তাৎক্ষণিকভাবে একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
হামলার পর ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যাতে তাদের দাবি অনুযায়ী একটি বিস্ফোরক-বোঝাই নৌকা ইরাকি জলসীমায় মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হানার মুহূর্ত দেখানো হয়েছে। বুধবার রাতের হামলায় আক্রান্ত হওয়া দুটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারের মধ্যে এটি একটি ছিল। ওই হামলায় অন্তত একজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
এদিকে টাইমস অব ইসরাইল জানায়, ইরান পুরো অঞ্চল জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখায় পারস্য উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়েছে, যাতে একজন নিহত হয়েছেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত হামলার মধ্যে তেহরানের কাছে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার খবর দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা।
ইরান ইসরাইলের ওপর তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও অব্যাহত রেখেছে। বুধবার রাতে লেবানন-ভিত্তিক তাদের প্রক্সি সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বিতভাবে আক্রমণের পর, যুদ্ধের ১৩তম দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত পাঁচটি দফায় ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পুরোটা সময় জুড়েই ইরান অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং বিশ্ব তেলের সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ঐতিহাসিক হারে তাদের তেলের মজুদ বাজারে ছাড়লেও, এই দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে, যার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
এছাড়া অঞ্চলের আরব রাষ্ট্রগুলো তাদের আবাসিক এলাকা ও কূটনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানের ছোড়া প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) গুলি করে নামানোর কথা জানিয়েছে।


















