ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ যখন তৃতীয় সপ্তাহে পা রাখল, ঠিক তখনই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বড় ধরনের সামরিক বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। জাপানের ওকিনাওয়া থেকে ২,২০০ জন প্রশিক্ষিত মার্কিন মেরিন সেনা এবং নাগাসাকির সাসেবো বন্দর থেকে অত্যাধুনিক উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই বিশাল রণপ্রস্তুতি মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্রমাগত হামলা এবং তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি মোকাবিলা করতেই নেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিমা জাহাজের হরমুজ পারাপার নিরাপদ করাই এই ত্রিপোলির মূল কাজ।

ইউএসএস ত্রিপোলি শুধু একটি জাহাজ নয়, এটি একটি ভ্রাম্যমাণ সামরিক ঘাঁটি। এতে রয়েছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, যা রাডারকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম।দ্রুত সেনা মোতায়েন ও উদ্ধার অভিযানের জন্য অপরিহার্য ভি-২২ অসপ্রে ও হেলিকপ্টার। ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট। এই ২২০০ সেনা স্থল, আকাশ ও সমুদ্র- তিন পথেই সমানতালে যুদ্ধ করতে পারদর্শী।
যদিও এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এই মেরিনদের এখনই ইরানের ভেতরে স্থল যুদ্ধের জন্য নামানো হবে কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এরা কমান্ডোদের জন্য অতিরিক্ত শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
এই সেনা মোতায়েনের নেপথ্যে আরও একটি বড় কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। ইসফাহানে বোমা হামলার পর এই ভাণ্ডারের বড় অংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে, যুদ্ধের শেষে এই ইউরেনিয়াম ইরানিদের হাতে রেখে দিলে তারা দ্রুত পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলতে পারে। তাই এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা চিরতরে ধ্বংস করতে স্থল অভিযানে সেনাদের ব্যবহারের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প।
খার্গ দ্বীপে হামলা ও ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি খার্গ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইতিমধ্যে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ভদ্রতার খাতিরে আমি এখন পর্যন্ত দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে আমি অবিলম্বে আমার এই সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করব।

চাপের মুখে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি
আগামী সপ্তাহে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। তেলের জন্য ৯০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল জাপান এখন উভয় সংকটে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্প হয়তো তাকাইচিকে অনুরোধ করবেন যাতে জাপানি সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পাহারায় অংশ নেয়। তবে জাপানের সংবিধান ও নিরাপত্তা আইনের কারণে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া তাকাইচির জন্য বেশ কঠিন হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে আনা এবং জাপান থেকে মেরিন সেনা মোতায়েন, সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে পুরো শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর কেন্দ্রীভূত করছে।


















