জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত পরাজয়ের পর থেকেই দেশে ভারতবিরোধী শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য। আবার শেখ হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন, আশ্রয় পেটয়েছেন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এমন ভারতবিরোধী ঢেউয়ের মধ্য দিয়েই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। যে দলটিকে ভারতবিরোধী বলেই ধরা হয়ে থাকে।
আর ভারতও পর্যবেক্ষণ করছিল যে, ভারতবিরোধী বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে যান বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। সফর শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।
তবে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করে আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে, ডিজিএফআই প্রধানের এই ভারত সফর দুই দেশের কূটনীতিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক।
আবার বিশ্লেষকদের আরেকটি মহল বলছে, এই বৈঠক আওয়ামী লীগকে ফের রাজনীতিতে ফেরানোর প্রাথমিক ধাপও হতে পারে, যা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে।
দ্য হিন্দুস্তান টাইমস এক খবরে এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে উল্টো রথ দেখা দেয়। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও টানাপোড়েন বাড়ছিলই।
এছাড়া ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন শুরুর ইঙ্গিতবাহী। এছাড়া এ ঘঢ়টনায় যুকাত আরও একজনকে ১৪ মার্চ গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করা হলো ডিজিএফআই প্রধানের দেশে ফেরার পর।



















