মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি কি নিহত?

প্রতিবেদক
Newsdesk
মার্চ ১৭, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ণ

ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির মৃত্যু নিয়ে ইসরাইল ও ইরানের পক্ষ থেকে সাংঘর্ষিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

 

 

গত রাতে ইরানে চালানো এক বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও, ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।


লারিজানি নিহত হওয়ার খবরটি সত্য হলে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এটিই হবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত।

‘টাইমস অফ ইসরায়েল’সহ একাধিক ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রাতের হামলায় লারিজানিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এছাড়া এই হামলায় ইরানের ‘বাসিজ’ বাহিনীর প্রধান গোলাম রেজা সোলেইমানি এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হামলার প্রকৃত ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।


লারিজানিকে শেষবার গত শুক্রবার তেহরানে কুদ্স দিবসের র‍্যালিতে দেখা গিয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে সেই দিনই যুক্তরাষ্ট্র লারিজানিসহ আইআরজিসির সাথে যুক্ত ১০ জন শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার তথ্যের বিনিময়ে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। লারিজানিকে ইরানের ক্ষমতার কাঠামোর অন্যতম মেরুদণ্ড এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইসরাইল যখন লারিজানির মৃত্যুর খবর প্রচার করছে, ঠিক তখনই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ লারিজানির নামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে লারিজানি বলেন, ৪৭ বছর আগে পাহলভী শাসনামলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন রাজপথে জনগণের স্লোগান আসলে টেপ রেকর্ডারের শব্দ! আর এখন ট্রাম্প বলছেন ইরানের শহরগুলোতে লক্ষ লক্ষ মানুষের আমেরিকা-ইসরাইল বিরোধী সমাবেশের ছবিগুলো আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।


বিবৃতিতে তিনি আরও যোগ করেন, ইরানি জনগণের বিজয় খুব শিগগিরই অর্জিত হবে। তবে এই বিবৃতিটি লারিজানি আগে থেকে রেকর্ড করে রেখেছিলেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

মৃত্যু বা অন্তর্ধানের খবরের মাত্র একদিন আগে লারিজানি মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশ্যে একটি জোরালো বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ইরান যখন আমেরিকা ও জায়নবাদী আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে, তখন মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে খণ্ডবিখণ্ড করা।

আলি লারিজানির ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে, তা নিয়ে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে বর্তমানে এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে। যদি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এক অভাবনীয় ও নিয়ন্ত্রণহীন মোড় নিতে পারে।

সর্বশেষ - আইন-আদালত