পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে দেশের সংবিধান সংশোধন বিষয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল থেকেই দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজধানী ব্যাংককসহ বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডে সাধারণত নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এবারের ভোট হচ্ছে আগাম। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে সময় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পালাবদলের কারণে চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
মূলত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংকট থাইল্যান্ডকে আগাম নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেয়। মে ২০২৫ সালে প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। সে সময় কম্বোডিয়ার এক হামলায় সীমান্তে দায়িত্বরত এক থাই সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
জুন ২০২৫ সালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা কম্বোডিয়ার সরকারপ্রধান হুন সেনের সঙ্গে একটি ফোনালাপ করেন। ফোন কলে হুন সেনকে ‘আংকেল’ সম্বোধন করার পাশাপাশি নিজের দেশের সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। ওই ফোনালাপটি পরে ফাঁস হয়ে গেলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ফোনকল কেলেঙ্কারির জেরে পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রার নেতৃত্বাধীন ফিউ থাই পার্টির সবচেয়ে বড় জোটসঙ্গী ভুমজাইথাই পার্টি জোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর মুখে পড়ে এবং কার্যত নড়বড়ে অবস্থায় টিকে থাকে।
এরপর আগস্ট ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত এক রায়ে প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে অযোগ্য ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
পরবর্তী মাস সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সংসদের দ্বিতীয় বৃহৎ দল ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল ‘পোগ্রেসিভ পিপলস পার্টি’র সঙ্গে জোট গঠন করে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে এই জোট সরকার গঠনের শর্ত হিসেবে সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ডিসেম্বর ২০২৫ সালে সেই শর্ত অনুযায়ী অনুতিন চার্নভিরাকুল সংসদ ভেঙে দেন। এর ফলে আজকের সাধারণ নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হয়।
এদিকে আজকের নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটে সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন ও গণভোট থাইল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বিবিসি


















