শনিবার , ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমান সম্পর্কে জানা গেল ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য

প্রতিবেদক
Newsdesk
মার্চ ১৪, ২০২৬ ২:৩০ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমানটিতে ক্রুদের জীবন বাঁচানোর জন্য কোনো প্যারাসুট বা ইজেকশন সিট ছিল না। বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) স্ট্রাটোট্যাঙ্কার। এই বিশালাকার বিমানগুলো মাঝ-আকাশে অন্য যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। বিমান বাহিনীর ওই কর্মকর্তা জানান, মালবাহী বা কার্গো বিমানের মতোই এই ট্যাঙ্কার বিমানগুলোতেও সাধারণত মাঝ-আকাশে জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে আসার (ইভাকুয়েশন) কোনো ব্যবস্থা থাকে না।

কেন থাকে না প্যারাসুট বা ইজেকশন সিট?

পেন্টাগনের সামরিক কৌশল অনুযায়ী, কেসি-১৩৫ বিমানগুলোকে সক্রিয় যুদ্ধের ময়দান বা সরাসরি ‘হুমকির আওতা’ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা হয়। এগুলো সাধারণত নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে অন্য বিমানকে জ্বালানি দেয়। এই কারণেই এগুলোতে যুদ্ধবিমানের মতো ইজেকশন সিট বা প্যারাসুট দেওয়া হয় না।

dhakapost
সিএনএন-এর সহযোগী ইসরায়েলি গণমাধ্যম কেএএন (KAN) টেলিগ্রামে দুটি ছবি প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) বিমানের লেজের উপরিভাগ (টেইল ফিন) নিখোঁজ / ছবি : সিএনএন

কর্মকর্তা আরও জানান, যদি মাঝ-আকাশে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা ঘটে, তবে ক্রুদের প্রধান কাজ হয় বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যতটা সম্ভব নিরাপদে অবতরণ করার চেষ্টা করা। তিনি বলেন, ‘আকাশে (এই বিমান থেকে) ইজেকশন বা বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।’ তবে, যদি অবতরণ এমন হয় যেখান থেকে বেঁচে ফেরা সম্ভব, ক্রুরা সেই ধরনের পরিস্থিতির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেন। দুর্ভাগ্যবশত, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় সেই সুযোগও ছিল না।

রহস্যময় দুর্ঘটনা ও তদন্ত

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে ছয়জন ক্রু সদস্যের সবার মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে শত্রুপক্ষ বা বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো পক্ষের গুলিবর্ষণের ঘটনা ছিল না। এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

dhakapost
উড়ন্ত একটি ফুয়েল স্টেশন, যেটি ইরাকের আকাশে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিপদের মুহূর্তে যেভাবে যুদ্ধবিমানগুলোর ‘ত্রাতা’ হয়ে কাজ করে কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান / ছবি : এআই দ্বারা তৈরি

দায় স্বীকার ও প্রমাণ

অন্যদিকে, ইরানের অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ বিমানটি ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেছে। তবে, গোষ্ঠীটি তাদের এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবিকে আমলে নিচ্ছে না, কারণ তারা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো হামলার ঘটনা নয়।

বিধ্বস্ত কেসি-১৩৫ বিমানটির লেজের অংশ (টেইল ফিন) নিখোঁজ হওয়ার ছবি ইসরায়েলি গণমাধ্যম কেএএন (KAN) প্রকাশ করেছে, যা মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের তত্ত্বকে জোরদার করে। বিমানটি ক্যালিফোর্নিয়ার বিল এয়ার ফোর্স বেসের ৯৪০তম এয়ার রিফুয়েলিং উইংয়ের ছিল বলে মার্কিং দেখে শনাক্ত করা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং নিহত সেনাদের ‘আমেরিকান হিরো’ বলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সূত্র : সিএনএন।

সর্বশেষ - আইন-আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত