ওয়াশিংটনের একাধিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিশ্লেষক মনে করছেন, হোয়াইট হাউজের নীতিনির্ধারকরা এখন ধীরে ধীরে উপলব্ধি করছেন যে ইরানকে নিয়ে তাদের পূর্বধারণা পুরোপুরি সঠিক ছিল না। আগে ধারণা করা হয়েছিল, কঠোর সামরিক চাপ ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইরানকে দ্রুত দুর্বল করে দেবে। কিন্তু বাস্তবে ইরান দীর্ঘ যুদ্ধ এবং কঠিন সামরিক চাপ সহ্য করার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে—এমন ইঙ্গিতই মিলছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে।
মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসির এক প্রতিবেদনের বরাতে তেহরানভিত্তিক পার্সটুডে বলছে, ইরানের সামরিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে শীর্ষ সামরিক বা রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার পরও দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ছয়টি দেশে সমন্বিত হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তারা দেখিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে ইরানের সহনশীলতা, সংগঠিত সমন্বয় এবং কৌশলগত শৃঙ্খলার প্রমাণ পাওয়া যায়—যা আগের মার্কিন প্রশাসন, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের আমলে হয়তো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরান ইতোমধ্যে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তেলবাহী জাহাজের বিমা কোম্পানিগুলোও সতর্কবার্তা দিয়েছে।
ফরেন পলিসির বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ইরানের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং কৌশলগত সক্ষমতার ভারসাম্য ধীরে ধীরে ইরানের অনুকূলে গড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।


















