বুধবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

ইরানের বিরুদ্ধে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এ অবস্থানের কথা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করতে সামরিক সংঘাত নয়, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ। সৌদি আরব সবসময়ই আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত এড়াতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর ভেতরে থেকে যেকোনো যুদ্ধবিরোধী উদ্যোগকে স্বাগত জানায় তেহরান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)ও একই ধরনের অবস্থান জানিয়ে দেয়। দেশটি ঘোষণা করে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘শত্রুতামূলক’ সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড কিংবা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর অনিচ্ছাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা ইরানের দিকে নজর রাখছি। আমাদের অনেক জাহাজ সেখানে যাচ্ছে। আমরা চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা প্রস্তুত থাকছি।”

সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। তারা একে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় দমন-পীড়ন হিসেবে উল্লেখ করছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, এই অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বিদেশে অবস্থানরত বিরোধীদের মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজরা’ দায়ী।

সব মিলিয়ে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি-সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যদিও কূটনীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আহ্বানও জোরালো হচ্ছে

সর্বশেষ - আইন-আদালত