যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে- ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টা হুমকি দিয়েছে ইরান। বলেছে, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা এখন কেবলই তেহরান নির্ধারণ করবে। দুই পক্ষের এমন অবস্থানের মধ্যে ইউরোপ বলছে, যুদ্ধে একমাত্র জয়ী দেশের নাম- রাশিয়া।
মঙ্গলবার খোদ ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, এই যুদ্ধে রাশিয়াই একমাত্র ‘উইনার’। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে হওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনীতিকদের সম্মেলনে কস্তা তাঁর মন্তব্যের পেছনে যুক্তিও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার অবস্থানও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
রাশিয়াকে নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যটি এলো ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের ১১তম দিনে। ততদিনে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাতটি বিশ্বের জ্বালানি ও পরিবহন খাতকে ওলটপালট করে দিয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে যোগান বাড়াতে এবং দাম কমাতে ওয়াশিংটন তেলের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে যাচ্ছে।
শিথিলতার বিষয়ে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম বা কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে- সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পরই ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেন।
আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাতের ফলে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম থেকে মস্কো মুনাফা লুটছে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী এই নেতা জানান, ইউক্রেন থেকে সামরিক সক্ষমতা এবং বিশ্বের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাওয়াটা রাশিয়ার জন্য লাভজনক হয়েছে।
ব্রাসেলসে আন্তোনিও কস্তা বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাশিয়া ক্রমাগত ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে তারা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগাতে নতুন নতুন সম্পদের উৎস খুঁজে পাচ্ছে।
ইইউ কূটনীতিকদের বার্ষিক সম্মেলনে কস্তা আরও বলেন, ‘আমরা নতুন এক বাস্তবতা দেখছি। যেখানে রাশিয়া শান্তি লঙ্ঘন করছে, চীন বাণিজ্যকে ব্যাহত করছে এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।’
ট্রাম্পকে ইরানের চাপ
জ্বালানির বাজারের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কমাতে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টা পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে পারস্য উপসাগর থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
ফ্লোরিডায় সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হতে যাচ্ছে।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা কমে যায়। এরপরই তেল রপ্তানি নিয়ে মন্তব্য করল ইরান। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে শত্রু পক্ষ এবং তাদের মিত্রদের কাছে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেবে না।’
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্যের পর ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম ১৫ শতাংশ কমে যায়। এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো সোমবারের ধস কাটিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। মিশর জ্বালানি তেলের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে এবং পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌবাহিনীর মাধ্যমে পাহারা দেবে।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আমরাই নির্ধারণ করব এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে। এই অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। আমেরিকান বাহিনী এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবে না।’
অপরদিকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে সরাসরি এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পিবিএস নিউজকে বলেছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন এবং যতক্ষণ সময় লাগবে, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’


















