ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা সামরিক অভিযানে প্রথমবারের মতো প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এই প্রথম মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মৃত্যুর সংবাদ জানানো হলো। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আল জাজিরা।
সেন্টকম জানাচ্ছে, ইরানের পাল্টা আক্রমণে ৩ জন মার্কিন সার্ভিস মেম্বার নিহত হয়েছে এবং আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য স্প্লিন্টারের আঘাত ও মস্তিষ্কে ঝাঁকুনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন, যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় ডিউটিতে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত সেনাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, এই অভিযান শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আমেরিকান বীরদের প্রাণহানি ঘটতে পারে; যুদ্ধে এমনটা প্রায়ই ঘটে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের চাবাহার পিয়ারে অবস্থানরত ইরানের একটি ‘জামারান-ক্লাস’ করভেট (ছোট যুদ্ধজাহাজ) মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে সাগরের তলদেশে তলিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সেন্টকম ইরানি সশস্ত্র বাহিনীকে অস্ত্র ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে লিখেছে, জাহাজ ছেড়ে চলে যাও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্বঘোষিত বার্তার বরাতে তারা এই হুঁশিয়ারি দেয়।
এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছিল, তারা চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে, মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি এবং এটি কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।পুরো অঞ্চল এখন এক চরম অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের ‘রেসপন্স এফোর্ট’ বা পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। একদিকে যেমন মার্কিন সেনারা প্রাণ হারাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও নৌ-যানগুলো মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।


















