ইরানে যে কোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। এমন আশঙ্কার মধ্যে নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরাইল ছাড়তে বলেছে ওয়াশিংটন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া দেশটির নাগরিকদের ইসরাইল ভ্রমণ না করতেও বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নাগরিকদের বলেছে, যতক্ষণ বাণিজ্যিক বিমান চালু আছে, সেই সময়ের মধ্যে ইসরাইল ছাড়ার পরিকল্পনা করুন।
ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বলেন, যারা ইসরাইল ছাড়তে চান তারা যেন আজই চলে যান।
দূতাবাসের স্টাফদের কাছে পাঠানো ইমেইলে হুকাবি বলেছেন, যে দেশেরই বিমানের টিকিটের পাবেন সেখানকার টিকিট কাটুন। এরপর সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন। কিন্তু আগে ইসরাইল থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করুন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকির মুখে ইরানে নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে একের পর এক দেশ তাদের নাগরিকদের তেহরান ছেড়ে যেতে বলছে। বাদ যায়নি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অন্যতম মিত্র রাষ্ট্র চীন।
শুক্রবার ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সোশ্যাল মিডিয়া বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করার এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গতকাল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু সেখানে স্পষ্ট কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। যদিও আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
তবে আলোচনা চললেও বসে নেই যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে দেশটি।
এরইমধ্যে দুটি মার্কিন রণতরীসহ এক ডজন যুদ্ধজাহাজ এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হলেই দেশটিতে হামলা চালানোর নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে পৌঁছার বেশিরভাগ উপাদান নিয়ে সমঝোতা রয়েছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি শুক্রবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার সমাপ্তির পর বলেছেন, উভয় পক্ষ এই রাউন্ডে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে এমন উপাদানগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি সমঝোতা রয়েছে।
আরাকচি আরও বলেন, এই উপাদানগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, স্বাভাবিকভাবেই, আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন। এই কারণে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আমাদের বিশেষজ্ঞরা আগামী সপ্তাহে সোমবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তিসংস্থা বা আইএইএর সাথে বৈঠক করবেন। সেখানে, কিছু প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে যাতে এই প্রযুক্তিগত দিকগুলো স্পষ্ট করা যায় যাতে পরবর্তীতে আমরা কূটনৈতিক লেভেলে বৈঠকে বসে সেগুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে শর্ত দিচ্ছে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। ইরানের সঙ্গে যদি এখন কোনো চুক্তি হয় তাহলে এটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল হবে। যদিও ইরান একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।





















