LondonMirror
আন্তর্জাতিক

ভারতে বসে বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার ছক আ.লীগ নেতাদের

বাংলাদেশে তারা ‘অপরাধী’ ও ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা ও অর্থ পাচারের মামলা রয়েছে। তবে ভারতের কলকাতার শপিংমল আর ফুডকোর্টে বসে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা বাংলাদশের রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন। এমন তথ্য উঠে প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে।

১৬ মাস আগে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারান। এরপর রোষানল থেকে বাঁচতে প্রায় ৬০০ নেতা-কর্মী কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন।

কলকাতায় অবস্থান করা গার্ডিয়ানের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হ্যানা এলিস-পিটারসেনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত এখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখার প্রধান ক্ষেত্র। গত বছর মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম স্থগিত করে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিনি দিল্লিতে বসে সব পরিকল্পনা করছেন। তিনি প্রতিদিন প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা দলের নেতা-কর্মী ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছেন। ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ উপেক্ষা করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।

কলকাতায় অবস্থানরত নেতাদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাছিম ও ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

সাদ্দাম হোসেন জানান, শেখ হাসিনা ‘হিরো’ হিসেবে দেশে ফিরবেন। দেশে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করছেন।

সাবেক মন্ত্রী নানক বর্তমান নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে দলের কর্মীদের সব ধরনের প্রচারণা ও ভোট বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, খুন ও বিচারহীনতার যে অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও জাতিসংঘ দিয়েছে, তা নিয়ে এসব নেতার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বাহাউদ্দিন নাছিম জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘সন্ত্রাসী দখলদারিত্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয় স্বীকার করেছেন, তাদের আমলে কিছু ‘ভুল’ ও ‘কর্তৃত্ববাদী আচরণ’ ছিল।

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য ভাষণ ও নির্বাচন নিয়ে কড়া মন্তব্যের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘গণহত্যাকারীর বিদ্বেষমূলক ভাষণ’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। নির্বাসিত এই নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন পরবর্তী অস্থিরতাই তাদের ফেরার পথ প্রশস্ত করবে।

Related posts

ভারতকে সেনা সরাতে বললেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

Newsdesk

শরিকদের হতাশ করলেন মোদী?

Newsdesk

ড. ইউনূসের বিচার নিবিড়ভাবে নজরে রাখছে যুক্তরাষ্ট্র : মিলার

Newsdesk