সোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

ভারত থেকে ফিরেই পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি ভাঙলো আমিরাত!

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

উপমহাদেশীয় রাজনীতি ও কূটনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেলো পাকিস্তান। জানা গেছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনার প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত  ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। শেষ মুহূর্তে এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিল্লিতে শেখ নাহিয়ানের তিন ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পরই এই খবরটি সামনে এলো। সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয়া ওই সফরটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ‘রিপল ইফেক্ট’ বা পরোক্ষ প্রভাব তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে প্রতিকূল অবস্থায় ফেলেছে।

পাকিস্তানি দৈনিক ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। সূত্রের বরাতে তারা জানিয়েছে যে, প্রাথমিক আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কোনো স্থানীয় অংশীদার খুঁজে না পাওয়ায় বিমানবন্দর পরিচালনার পরিকল্পনাটি বাদ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে, নেপথ্যে আরও কারণ থাকতে পারে।

নেপথ্যে কি আমিরাত-সৌদি সম্পর্কের টানাপোড়েন?

পাকিস্তানি গণমাধ্যম এই চুক্তি বাতিলের পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক কারণ উল্লেখ না করলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্বের সময়েই এমন সিদ্ধান্ত এলো। এক সময়ের ঘনিষ্ঠতম এই দুই পারস্য উপসাগরীয় মিত্র এখন ইয়েমেনের বিবাদমান পক্ষগুলোকে সমর্থনের বিষয়ে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।

এমন এক সময়ে যখন ইসলামাবাদ রিয়াদের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সাথে মিলে একটি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তখন আরব আমিরাত ভিন্ন পথে হেঁটে ভারতের সাথে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব পাকিস্তানের সাথে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে, যেখানে এক পক্ষের ওপর আক্রমণকে অন্য পক্ষের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি মাসে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের দিল্লি সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তিনি একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। অর্থাৎ, সৌদি আরব যেখানে পাকিস্তানের সামরিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে, আরব আমিরাত সেখানে ভারতের সাথে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে জড়াচ্ছে।

প্রায় চার দশক আগে আরব আমিরাত ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। হাজার হাজার পাকিস্তানি শ্রমিক সেখানে বিভিন্ন খাতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বিনিয়োগ খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা ছিল ব্যাপক। তবে সময়ের সাথে সাথে নিরাপত্তা ইস্যু, লাইসেন্সিং বিতর্ক এবং পাকিস্তানের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এই সম্পর্কে ভাটা পড়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনার কারণে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে, যা এখন নামমাত্র মূল্যে বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে।

গত বছরই ইসলামাবাদ ‘পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স’ (পিআইএ) বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছে। আফগানিস্তানের মতো প্রতিকূল পরিবেশেও বিমানবন্দর পরিচালনার সক্ষমতা থাকা পরেও আমিরাতের ইসলামাবাদ বিমানবন্দর প্রকল্প থেকে সরে আসা পাকিস্তানের ওপর আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

ভারত-আরব আমিরাত ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা

বিপরীত দিকে, গত সপ্তাহে দিল্লি সফরের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা ৯০০ ভারতীয় বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন, যাকে নয়াদিল্লির প্রতি সদিচ্ছার বড় একটি নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরো প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করেন। তারা একমত হন, ভারত-ইউএই ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এখন আরও উচ্চাভিলাষী এবং বহুমাত্রিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

বৈঠকের পর ইস্যু করা যৌথ বিবৃতিটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক সমন্বয়ের রোডম্যাপ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

সর্বশেষ - আইন-আদালত