আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জাতিসংঘ বর্তমানে নজিরবিহীন এক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বকেয়া বার্ষিক চাঁদা এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সংস্থাটি ‘মারাত্মক আর্থিক ধসের’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সদ্য বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সংকটের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন গুতেরেস। চিঠিতে তিনি সদস্য দেশগুলোকে জাতিসংঘের আর্থিক নিয়ম সংস্কারে সম্মত হওয়া অথবা সময়মতো ও পূর্ণাঙ্গভাবে চাঁদা পরিশোধ করার জন্য জোরালো আহ্বান জানান। অন্যথায় সংস্থার শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চাঁদা পরিশোধের বিষয়টি এখন ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’-এই সংকটজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো অর্থ না পেলে জাতিসংঘের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
যদিও গুতেরেস তার চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্ত এ সংকটকে আরও গভীর করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এরই মধ্যে জাতিসংঘসহ অন্তত ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন উদ্যোগও চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সংস্থার মূল বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ-২২ শতাংশ-দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০ শতাংশ দেয় চীন। তবে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্য দেশগুলোর মোট বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম। বাজেট কমানো সত্ত্বেও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের নিয়মিত চাঁদা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে। বাকি দেশগুলোর অনিশ্চয়তা সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।


















