যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে বড়ো ধরনের ওলটপালট শুরু হয়েছে। মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এর পরপরই মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকেও পদচ্যুত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনো সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে এসব নাটকীয় পরিবর্তনের খবর সামনে আসে বলে রয়টার্স ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে।
তিনজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাপ্রধান র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছেন। পেন্টাগন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ৪১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জর্জ অবিলম্বে অবসর গ্রহণ করবেন। অথচ তার মেয়াদের আরও এক বছরের বেশি সময় বাকি ছিলো।
জর্জের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডনে এবং চ্যাপলেইন কোরের প্রধান মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন মার্কিন বাহিনী বিশেষ অভিযানে সক্রিয়, ঠিক সেই মুহূর্তে সেনাবাহিনীর এই শীর্ষস্থানীয় রদবদল পেন্টাগনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি, তবে হেগসেথের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে একে মিলিয়ে দেখছেন অনেকে।
অপরদিকে, সেনাপ্রধানের পর বড়ো ধাক্কা আসে বিচার বিভাগে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে পদচ্যুত করেছেন। মূলত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের নথি প্রকাশে ধীরগতি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগে তাকে সরানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সাময়িকভাবে বিচার বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন। ব্লাঞ্চ এর আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।
পাম বন্ডি সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আগামী এক মাস তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজ করবেন। বন্ডির বিদায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্থিরতা ও নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
গত এক বছরে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের সাবেক চেয়ারম্যান সি. কিউ. ব্রাউন, নৌবাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনীর ভাইস চিফ অফ স্টাফকে বরখাস্ত করার পর জেনারেল জর্জের অপসারণ পেন্টাগনের নেতৃত্বকে চরম অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিলো।
অন্যদিকে, বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের ‘স্বাধীন ঐতিহ্যে’ পরিবর্তন এনে নিজের ঘনিষ্ঠদের বসানোর ট্রাম্পের এই নীতি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও অনুগত কর্মকর্তাদের আনতেই ট্রাম্প এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছেন।


















