পবিত্র রমজান মাসের শেষের এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ‘ইসলামভীতি প্রতিরোধ’ বা ‘ইসলামোফোবিয়া’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংঘাত ও অস্থিরতা অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক মুসলিম রয়েছেন। ফ্রন্টলাইনের বাইরেও বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম আজ এক ধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
গুতেরেস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ আজ কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, সামাজিক-অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং অযাচিত নজরদারির রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, যখন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বৈষম্যমূলক বক্তব্য দেন, তখন ঘৃণা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ঘৃণ্য বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নামে পুরো একটি সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করা যাবে না।
ইসলামভীতি মোকাবিলায় সমন্বয় ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে জাতিসংঘ মহাসচিব ‘ইউনাইটেড নেশনস অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস’ -এর উচ্চ প্রতিনিধিকে ‘ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, রমজানের মূল শিক্ষা হলো সহানুভূতি ও সংহতি। এই শিক্ষাগুলোকে পুঁজি করেই আমাদের ঘৃণা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। তিনি প্রতিটি দেশের সরকারকে সমতা রক্ষা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘৃণার সামনে নীরব থাকা মানেই তাকে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া।
সবশেষে তিনি সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।



















