মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. London Mirror Specials
  2. অন্যান্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে আগামীর সরকার: তারেক রহমান

প্রতিবেদক
Newsdesk
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশবাসীকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের নাগরিক দুর্বল থাকলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না। আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনসমর্থন পেলে আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে আরও বলেছেন, দেশের জনগণ সুযোগ দিলে সব শহিদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই হবে তার দায়িত্ব।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি অতীতে শাসনকালের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভাষণে তিনি নাগরিক ক্ষমতায়ন, সুশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, তরুণ সমাজ, নারী ও কৃষকদের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

নাগরিক ক্ষমতায়ন ও টেকসই গণতন্ত্র

প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণের শুরুতেই তারেক রহমান নাগরিকের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নাগরিককে দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না। তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা ছাড়া দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং বিকেন্দ্রীকরণ- কোনোটিই টেকসই হবে না। তিনি আবারও স্মরণ করেন, জনগণই ক্ষমতার মূল উৎস।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

সরকার পরিচালনায় জনগণের সমর্থন পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায়, বিএনপি সরকার ইনশাআল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে আইনের শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করাকে তিনি নিজের এবং দলের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বত করেন, দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।

তরুণ ও নতুন ভোটারদের প্রতি আহ্বান

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক’।

ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিলে, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের দায়িত্ব নেবেন। আর জনপ্রতিনিধিরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা তিনি নিজে তদারকি করবেন।

অতীতের ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা

বিএনপি যখন পূর্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল, তখন কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রতিফলন

তারেক রহমান জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি ২০০১ সালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সে সময় সরকারের অংশ না হয়েও তিনি তৃণমূলের সমস্যা বুঝতে সারা দেশ ঘুরেছেন। বিদেশের মাটিতে থেকেও তাঁর মন-সত্তা ছিল বাংলাদেশেই।

তরুণ ও নারী ও কৃষকদের জন্য পরিকল্পনা

তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করলে বিএনপি শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি এই বেকার ভাতা হয়তো একজন শিক্ষিত বেকারকে স্বীয় উদ্যোগে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নারীদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনশক্তির বেশি নারী শক্তিকে রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতির মূল ধারার বাইরে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। যদি আপনারা বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তাহলে আমরা প্রথমবারের মতো দেশে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবারগুলোর নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডগুলোকে আমরা নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে মনে করি।

একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তাদের সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে সম্মানী দেওয়া হবে।

এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে-বিদেশে অন্তত এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। আর পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে যথাসময়ে পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের তরুণ-যুবকের একটি বড় অংশ বর্তমানে বেকার। বিএনপি সরকার গঠন করলে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

সবশেষে, তারেক রহমান তাঁর ভাষণে মহানবী (সা.)-এর ন্যায়বিচারের আদর্শকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর সক্রিয় সমর্থন ও দোয়া চেয়ে তিনি ভাষণ শেষ করেন।

সর্বশেষ - আইন-আদালত