খোলা চিঠি
জনাব তারেক রহমান
আসসালামু আলাইকুম।
দীর্ঘ সতেরো বছর পর একটি নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আপনার স্বদেশে পদার্পণকে আমরা স্বাগত জানাই। আপনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র এবং তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান—এই পরিচয় নিঃসন্দেহে জাতির কাছে গৌরবের।
আজ যে নতুন বাংলাদেশে আপনি ও আপনার সহযোদ্ধারা মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন, সেই স্বাধীনতার পথ রচিত হয়েছে আমাদের সন্তানদের ত্যাগ, রক্ত এবং আত্মবলিদানের মাধ্যমে। জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনে যেসব তরুণ প্রাণ অকালে ঝরে গেছে, তারা কেবল একটি দলের জন্য নয়—একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নে জীবন দিয়েছে।
এই বাস্তবতা সামনে রেখে, একজন শহীদ পিতার পক্ষ থেকে এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে আপনার কাছে কিছু বিনীত দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরছি—
১. জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করতে হবে।
২. শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সকল শহীদ পরিবারকে আইনি সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হয়।
৪. এই সত্যটি জাতীয়ভাবে স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের সন্তানরা জীবন উৎসর্গ না করলে আজকের এই নতুন বাংলাদেশের পথ উন্মুক্ত হতো না।
৫. ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থায় শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কেবল স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ না থাকে—বরং ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে একটি টেকসই রাষ্ট্র নির্মাণে তা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে আপনার সক্রিয় উদ্যোগ প্রত্যাশা করি।
আমরা প্রতিশোধ নয়—ন্যায়বিচার চাই। আমরা বিশৃঙ্খলা নয়—আইনের শাসন চাই। আমাদের সন্তানদের রক্তের ঋণ যেন ইতিহাসের পাতায় চাপা না পড়ে, সেটিই আমাদের একমাত্র আকুতি।
আপনার নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে আপনি ভূমিকা রাখবেন—এই প্রত্যাশায় রইলাম।

ইতি,
জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান
শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভীর বাবা
মোহাম্মদ আবুল হাসান


















