ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের গণভোটে আজ সকাল থেকেই ভোট দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। ভোট দেওয়ার পর তারা গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হলো আজ। দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের পর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এই নির্বাচন বাংলাদেশে একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ভোট দেয়ার সুযোগ হয়েছে, এর মাধ্যমে নতুন দিনের সূচনা হলো। ভোট শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হোক। এর মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের সরকার হোক, এই দোয়া করি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটলে ইগনোর করবো, তবে বড়ো কিছু ঘটলে মেনে নেবো না, যা করা দরকার তাই করবো।
রাজধানীর গুলশান মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোট দিয়ে উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব ছিলো একটি নির্বাচন করা যা আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে রাজনৈতিক দল অনিয়ম নাশকতা করবে তার দায় সেই রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। যদি ভোট সুষ্ঠু হয়, তবে আমরা বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসবো। জনরায় যাই হোক আমরা মেনে নেবো। তবে জয়-পরাজয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে।
জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাব বলে আশা করি। যারা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, তাদের উপেক্ষা করে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহবান জানাই।
এদিকে ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিছু প্রার্থী।আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (এবি পার্টি) মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বলেন, পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ হলেও গত রাতে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়েছি। কারচুপি না হলে আমরা ফলাফল মেনে নেবো।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, গত রাতে কিছু দুর্বৃত্ত কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছিলো। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধানের শীষের জয় হবে বলে আমি আশাবাদী। ভোটারদের গণভোটের বিষয়টিও এজেন্টরা ভালোভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ মাদারটেক ডা. আজিজ স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বলেন, জনগণের রায় শিরোধার্য। যিনিই জিতবেন, দেশের স্বার্থে তার সঙ্গে কাজ করতে আমি প্রস্তুত।
মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ রোডের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মো. মামুনুল হক বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে ফলাফল যাই হোক মেনে নেবো।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যতোটুকু দেখেছি পরিবেশের কোনো সমস্যা দেখিনি। ভোটার উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে
বরিশাল নগরীর রুপাতলি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দলের প্রার্থী ফয়জুল করিম বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ফলাফল ঘোষণা না করার আগ পর্যন্ত কারচুপির শঙ্কা রয়েছে।
কক্সবাজারের পেকুয়ায় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিহাসের বাক বদলানো শুরু হয়েছে, আমি লাইনে সবার শেষে দাঁড়িয়ে ভোট দিলাম। এখানে সবাই এখন নিজের ভোটাধিকার নিয়ে সচেতন। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশে সুন্দর ও স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রত্যাশায় রক্ত দিয়েছেন, আমাদের সন্তানের শহীদ হয়েছেন সে প্রত্যাশা-স্বপ্ন আকাশচুম্বী। গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
এদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ভোট দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ঠ প্রকাশ করেছেন। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের আশার প্রতিফলন হতে যাচ্ছে। মানুষ এই ভোটের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। সেই কাঙ্খিত ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো রয়েছে। যদি এইভাবে ভোটের পরিবেশ থাকে, মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারে, তাহলে আমি শতভাগ বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, দিনের শেষভাগে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে সকাল থেকেই ভোটারদের বড়ো লাইন দেখা গেছে। কিছু প্রার্থীকে ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে দেখা গেছে।


















