ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বিকেল সাড়ে তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার পাঠ করবেন।
বৃহস্পতিবার, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত হতে যাচ্ছে, কারণ তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন। এর আগে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন।
২০১৮ সালে তার অনুপস্থিতিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এই দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাজপথে এবং নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয় রয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে বিএনপির ঐতিহাসিক ‘৩১ দফা’, ‘জুলাই সনদ’ এবং তরুণ ভোটারদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো জীবনঘনিষ্ঠ ও জনমুখী সেবাগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেয়া হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের মতামত এবং যুগের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে ইশতেহারটি সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিশন হলো জনগণের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করা। ইশতেহারের প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবভিত্তিক এবং টেকসই করার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে মানুষ তাদের পরিবার নিয়ে নিরাপদে এবং স্বনির্ভরভাবে থাকতে পারে।
ইশতেহারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি থাকবে।
এছাড়াও আলেম-ওলামা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বিএনপি নতুন ও বিস্তৃত দিকনির্দেশনা দেবে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, বিএনপি এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের রূপরেখা দিচ্ছে, যা দেশের প্রতিটি সেক্টরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং জনগণের পূর্ণ নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করবে।



















