LondonMirror
বাংলাদেশ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

পরাধীনতার শিকল ভেঙে বিশ্বের বুকে স্বাধীন দেশ হিসাবে অস্তিত্ব ঘোষণার আজ ৫৫ বছর। সেই ঘোষণার পথ ধরেই ৩০ লাখ শহীদ, অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং বীর সন্তানদের লড়াই-সংগ্রামে অর্জিত হয়েছে সবুজ-শ্যামল এই বাংলাদেশ।

আজ ২৬ মার্চ। বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিন-মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনেই দৃপ্ত শপথে বাঙালি জানান দিয়েছিল এদেশ আমাদের। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেসব অগণিত শহীদের কথা, যাদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ। আত্মত্যাগের সেই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। সবাই কৃতজ্ঞচিত্তে আজ শ্রদ্ধা জানাবে সেই বীর সন্তানদের।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়ে দিনটির মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক, স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কর্মমুখর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দলমতনির্বিশেষে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সংগঠক এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখা সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব দেশ ও দশের ওপর পড়ছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একটি স্বনির্ভর, গতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছে। তাই এখন দরকার দৃঢ় জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেম।

এ দিনে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সত্তরের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু দীর্ঘ শোষণ ও আগ্রাসনের ধারাবাহিকতায় বাঙালির হাতে শাসনভার দেওয়ার বদলে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার নামে করতে থাকেন কালক্ষেপণ। পর্দার আড়ালে প্রস্তুত হয় হিংস্র কায়দায় বাঙালি হত্যাযজ্ঞের ‘নীলনকশা’। বাঙালির আবেগ, সংগ্রাম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে নির্মূল করতে অস্ত্র হাতে নামে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। শোষিত ও নির্যাতিত মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শুরু করে ইতিহাসের নিষ্ঠুর গণহত্যা। সেই কালরাত্রি থেকেই শুরু হয় মৃত্যু, ধ্বংস, আগুন ও পৈশাচিক বর্বরতা। কিন্তু ওই অমানিশা ভেদ করেই দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য। ২৬ মার্চের সূচনালগ্নে বেতারকেন্দ্রের কর্মীদের সহায়তায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

অতীতের মতোই আজ ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পর্যায়ক্রমে বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহিদদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাবেন। শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের জেলা ও উপজেলার স্মৃতিসৌধেও থাকবে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন। সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ করার প্রস্তুতি রয়েছে। এ দিবসে রীতি অনুযায়ী সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট : আজ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। আয়োজনটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে হবে। দর্শনার্থীদের ব্যাগ বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্টা দল ও ওয়ারফেজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বঙ্গভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা আজ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। বঙ্গভবন থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকালে বঙ্গভবনের সবুজ লনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেক কাটবেন। তারা আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

স্মারক ডাকটিকিট, খাম, ডাটাকার্ড ও বিশেষ সিলমোহর : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। এছাড়াও ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব স্মারকের উদ্বোধন করেন।

বিএনপির অলোচনাসভা কাল : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি কাল আড়াইটায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শ্রদ্ধা জানাবে জামায়াত : দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বুধবার বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ সকালে শফিকুর রহমান রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং দলের সব পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া করা হবে। এছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পৃথক অনুষ্ঠান রয়েছে।

শিল্পকলায় ‘দ্য পিপলস প্রেসিডেন্ট’ প্রদর্শনী : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে বিশেষ সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জাতীয় নাট্যশালায় প্রদর্শিত হবে ‘দ্য পিপলস প্রেসিডেন্ট’ শীর্ষক ৩০ মিনিট দৈর্ঘ্যরে তথ্যচিত্র। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ছায়ানটে আলোচনা, গান ও আবৃত্তি : আলোচনা, দেশত্মবোধক গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালন করবে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থাকবে বৈচিত্র্যপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন।

Related posts

হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মিথ্যাচার করেছেন : আসিফ নজরুল

Newsdesk

গেজেট প্রকাশের পরই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বিষয়ে সিদ্ধান্ত : সিইসি

Newsdesk

অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে,৭ জানুয়ারি ভোট দিয়ে বিএনপিকে উপযুক্ত জবাব দিন: শেখ হাসিনা

Newsdesk